শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০২২

গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত সত্যাগ্রহ আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়গুলি আলােচনা করাে ।

অনাস পাস রাষ্ট্রবিজ্ঞান honours pass general political science গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত সত্যাগ্রহ আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়গুলি আলােচনা করাে gandhir nritite porichalito sottagroho andoloner bivinno porjayguli alochona koro questions answers



উত্তর : গান্ধীজি সত্য , অহিংসা ও আত্মনিগ্রহের ভিত্তিতে দেশের ভিতরে ও বাইরে সত্যাগ্রহ আন্দোলনকে পরিচালিত করেছিলেন । এই সত্যাগ্রহ আন্দোলনের পর্যায়গুলি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছিল । এই পর্যায়গুলি সম্পর্কে নিম্নে আলােচনা করা হল । 
 

প্রথম পর্যায় : দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ : ১৯০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভালে সরকার সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নাম নথিভুক্ত করতে বাধ্য  করার জন্য ‘এশিয়াটিক রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ’ পাশ করলে গান্ধীজি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন ও প্রতিকারার্থে ইংল্যান্ডে ডেপুটেশনে যান । কিন্তু এই ডেপুটেশন ব্যর্থ হলে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের নিয়ে বর্ণবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯০৭ সালে প্রথম সত্যাগ্রহ শুরু করেন ।

 দ্বিতীয় পর্যায় : চম্পারণ সত্যাগ্রহ : ১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্য দিয়ে গান্ধীজি ভারতের সত্যাগ্রহ আন্দোলন গড়ে তােলেন । ১৯১৭ সালে ১০ এপ্রিল বিহার রাজ্যের অন্তর্গত চম্পারন জেলায় ব্রিটিশদের ‘ তিন কাঠিয়া প্রথা ’ র বিরুদ্ধে নীলচাষিদের স্বার্থরক্ষায় শুরু করেন ‘ চম্পারণ সত্যাগ্রহ ’ । 
 

তৃতীয় পর্যায় : খেদা সত্যাগ্রহ : ১৯১৮ সালে গুজরাটের কায়দা বা খেদা জেলায় খরা হওয়ার দরুণ দুর্ভিক্ষের দেখা দেয় । গান্ধীজি খরা - পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাজনা বন্ধ করার কথা বলেন । গান্ধীজির আন্দোলনের ফলে শেষ পর্যন্ত জমির খাজনা মুকুব করে দেন সরকার । 


চতুর্থ পর্যায় : আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ : ১৯১৭ সালে আমেদাবাদ প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে ফলে সেখানকার কাপড় কলের অনেক শ্রমিক মারা যায় এবং শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে চলে যেতে থাকে । এর ফলে মালিক শ্রেণি শ্রমিকদের কথা দেয় যে তারা শ্রমিকদের ‘প্লেগ বােনাস ’ দেবে । কিন্তু মালিক এই প্রতিশ্রুতি না রাখায় ১৯১৮ সালে গান্ধীজি আমেদাবাদে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে বসেন । শ্রমিকদের নায্য মজুরির প্রতিবাদে । 


পঞ্চম পর্যায় :রাওলাট সত্যাগ্রহ : ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ দিল্লির ইম্পেরিয়াল আইন পরিষদের ‘রাওলাট অ্যাক্ট ’ পাশ হয় । রাওলাট আইনে ব্রিটিশ ভারতে বসবাসরত সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত যেকোনাে ব্যক্তিকে বিনা বিচারে দুই বছরের কারাবাস , বিপ্লবী কার্যক্রম মােকাবিলায় , প্রচারিতদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, ওয়ারেন্ট ব্যতীত গ্রেপ্তার তা ছাড়া আরও নানা আইন লিপিবদ্ধ করা ছিল । এই নিষ্ঠুর আইনের প্রতিবাদে গান্ধীজি সত্যাগ্রহ আন্দোলন গড়ে তােলেন , ‘রাওলাট সত্যাগ্রহ’ যা ‘ নামে পরিচিত ছিল । 


ষষ্ঠ পর্যায় : লবণ সত্যাগ্রহ : ১৯৩০ সালে ২২ মার্চ গান্ধীজি তার আমেদাবাদের কাছে সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি পদযাত্রা শুরু করেন । এই ডান্ডি যাত্রা বা লবণযাত্রা ঔপনিবেশিক ভারতে ব্রিটিশদের একচেটিয়া লবণনীতির বিরুদ্ধে একটি অহিংস করপ্রদান -বিরােধী আন্দোলন । এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয় । গান্ধীজি তার সঙ্গীদের নিয়ে ২৪ দিন ২৪০ মাইল পথ হেঁটে ডান্ডি গ্রামে পৌছান । লবণ আইন ভঙ্গ করেন এবং সমুদ্রের জল থেকে লবণ প্রস্তুত করেন ১৯৩০ সালের ৬ এপ্রিল । এই আন্দোলন লবণ সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত । 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন